আজকে বলবো কি লগার সম্নধে।।
ধরুন আপনি সাইবার ক্যাফেতে ব্রাউজিং করছেন যেই পিসিতে বসে আপনি ব্রাউজিং করছেন তাতে কেউ পূর্বেই কি-লগার ইনস্টল করে রেখে গেছে। এখন ধরুন আপনি ফেইসবুকে এ গেলেন এবং ইউজারনেম এবং পাসওয়ার্ড প্রদান করলেন । তৎক্ষনাত কি লগার টি আপনি যা যা টাইপ করেছিলেন সব রেকর্ড করে ফেলছে । ভয়ংকর ব্যাপার !!!!!
কি লগার হচ্ছে এমন একটি প্রোগ্রাম যেটি আপনার কম্পিউটারে ইনস্টল করা থাকলে আপনি কি-বোর্ডে কি’ গুলো প্রেস করে কম্পিউটারে যা যা লিখছেন তা সেই প্রোগ্রামটি সংরক্ষন করে রাখবে আপনার অজান্তে কি লগার হচ্ছে।
কি-লগার গুলোতে স্ক্রিনশট ফাংশনালিটি রয়েছে যার মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে বা নির্দিষ্ট সময় পরপর কি-লগারটি ডেক্সটপের স্ক্রিনশট তুলে রাখে ফলে হ্যাকার এটিও জানতে পারবে আপনি ডেক্সটপে কি কাজ করছিলেন ,কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করছেন , ইউজারনেম বক্সে কি লেখা আছে , পাসওয়ার্ড এর ঘরে কালো বিন্দু গুলোর সংখ্যা কয়টি ( যা পরবর্তীতে লগ হতে ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড কে আলাদা ভাবে বুঝতে সহায়তা করে)
কি-লগার এমন একটি প্রোগ্রাম যা আপনার কম্পিউটারে বসে আপনার প্রতিটা কি-ষ্ট্রোক সংরক্ষন করে।তা কোন একটি এফ.টি.পি.(ফাইল ট্রান্সফার প্রোটোকল) বা ই- মেইলে পাঠিয়ে দিবে। তার ফলে আপনার টাইপ করা সকল পাসওয়ার্ড ও গোপনীয় তথ্য অন্য কারো কাছে ফাস হয়ে যেতে পারে। আজকাল ছোট থেকে শুরু করে বড় পর্যন্ত বেশিরভাগ হ্যাকাররাই এই প্রোগ্রামটি ব্যবহার করে। যদি আপনার ফেইসবুক, ইয়াহু, জি-মেইল বা অন্যান্য এ্যাকাউন্ট যদি হ্যাক হয়ে থাকে তাহলে তা কি-লগার দ্বারাই বেশির ভাগ সময় হয়ে থাকে।কি-লগারের তৈরি হয়, ভাল কাজের জন্যই শুরু হয়। পরে তার অপব্যবহার করা শুরু হয়।পরিবারে বাচ্চারা যাতে নষ্ট না হয়,তাই কি-লগার কম্পিউটারে ইন্সটল করে মাতা-পিতারা তাদের সন্তানদের সকল কাজের ওপর নজর রাখতেন আবার,অনেক সময়,অফিসের মালিক তার কর্মচারীদের ওপর নজর রাখতে কম্পিউটারে কি-লগার লাগিয়ে রেখে দেন। তার ফলে কর্মচারীরা কাজের বাহিরে অন্যান্য কাজ থেকে বিরত থাকতো।এখন কি-লগার অনেক বিপদজনক হয়ে গেছে। অনেক পে-পেল এ্যাকাউন্ট,ইয়াহু এ্যাকাউন্ট,ফেইসবুক এ্যাকাউন্ট ,ব্যাংক এ্যাকাউন্ট,
ইত্যাদি হ্যাক হচ্ছে শুধু এই কি-লগার দ্বারাই।
কি-লগার থেকে বেচে থাকা কিভাবে সম্ভব?
১. কি-লগার বিশেষ করে কি-বোর্ডে টাইপ করা সবকিছু সংরক্ষন করে। কেননা আমরা কি-বোর্ডে আমরা আমাদের পাসওয়ার্ড টাইপই না করি?আমরা চাইলে উইন্ডোজের
অন-স্ক্রিন কি-বোর্ড ব্যবহার করতে পারি।তা দিয়ে আমাদের পাসওয়ার্ড আমরা টাইপ করলে বেশির ভাগ সময় কি-লগার ধরতে পারে না।স্টার্টে গিয়ে রান-এ ঢুকে আপনি "osk"কমান্ডটি লিখলেই অনস্ক্রিন কি-বোর্ড চলে আসবে(উইন্ডোজে)।
২. কি-লগার কি-বোর্ডে চাপা প্রতিটি কি-ষ্ট্রোক ধরে ফেলে। কিন্তু আমরা চাইলে এ্যান্টি-কিলগার নামের একটি প্রোগ্রাম ব্যবহার করতে পারি যা দিয়ে আমাদের কি-ষ্ট্রোক এনক্রিপ্টেড হয়ে যাবে এবং কি-লগার তা আর ধরতে পারবেনা। বিভিন্ন
এ্যান্টি-কিলগারের মধ্যে আমার প্রিয় হচ্ছে কি-স্ক্র্যাম্বলার( www.qfxsoftware.com )
৩. ইন্টারনেটে অনেক হ্যাকিং সফ্টওয়্যার ডাউনলোডের সময় লেখা থাকে যে আপনি আপনার ভাইরাস স্ক্যান বন্ধ করতে হবে।এই ভুল ভুলেও করবেন না। আপনার ভাইরাস স্ক্যান সবসময়ে আপডেটেড রাখবেন ও কখনো বন্ধ করবেন না। যদি কিছু ডাউনলোড করার সময় ভাইরাস স্ক্যান তা বন্ধ করতে চায় তাহলে নিশ্চিন্ত হয়ে ডাউনলোডটি বন্ধ করে দিবেন।
৪. অনেক সময় ভাইরাস-স্ক্যানও কি- লগার ধরতে পারেনা। এর জন্য আপনি সবসময়ই কোন একটি এ্যান্টি-স্পাই সফ্টওয়্যার ইন্সটল করে রাখবেন।
৫. ইন্টারনেট থেকে কখনো কোন হ্যাকিং সফ্টওয়্যার ফ্রিতে ডাউনলোড করবেন না কারন বেশির ভাগ সময়ই সেগুলোতে কি-লগার বাইন্ড করা থাকে।

0 comments:
Post a Comment